উচ্চ মাধ্যমিকের পরে দিক নির্দেশনা

একবিংশ শতাব্দীতে আমরা এক কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে র‍য়েছি। চারিদিকে চাকরির এবং কাজের হাহাকার। সদ্য যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করলেন তারা যদি সঠিক বিষয় এবং বিভাগ নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে ভবিষ্যতে খুব মুশকিলে পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতে উপযুক্ত কোর্স নির্বাচন করুন। সদ্য পাস করা পড়ুয়াদের সবারই কলেজ জীবনের আনন্দ উপভোগ করার হাতছানি।  অধিকাংশ পড়ুয়ারাই সঠিক গাইডেন্সের অভাবে ভূল বিষয় অথবা কোর্স নির্বাচন করতে পারেন না, এর ফল তাদের আজীবন পোহাতে হয়। একদিকে যেমন, চাকরির অভাব ও মন্দা বাজার  রয়েছে অন্যদিকে, কারিগরি পড়ুয়ার অভাবও রয়েছে। এবিষয়ে রাজকুমার হিরানীর "থ্রিইডিয়টস" সিনেমাটি আমাদের সফলভাবে উপযুক্ত দিক নির্দেশনা করে।
উচ্চ মাধ্যমিকের পরে অধিকাংশ পড়ুয়ারা কলেজের হাতছানিতে পড়ে কোন গাইডেন্স ছাড়াই স্নাতক অথবা যে কোন বিষয়ে সান্মানিক স্নাতকে ভরতি হয়ে যায়। স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পাস করে বেরিয়ে হাতে গোণা পড়ুয়ায় চাকরির মুখ দেখতে পান, অধিকাংশ বেকারত্বের জ্বালায় ভোগেন। 
গত কয়েক দশক ধরে সাম্মানিক স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে বাংলা, ইংরেজি, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, জীব বিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভৃতি কয়েকটি বিখ্যাত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।  অধিকাংশ পড়ুয়াই এই বিষয়গুলি পছন্দ করে। এই কারণে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়। ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএড) এবং ব্যাচেলর ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (বিএড) কম্পালসরি হওয়ায় শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোন বিভাগে চাকরির আশা খুবই কম। যদিও বিজ্ঞান বিভাগের অনেক শাখা এবং চাকরির বাজার। তবে, সমাজ বিদ্যা, এডুকেশন, কম্পিউটার, ট্যুরিজম, লাইব্রেরি সায়েন্স, ওয়ার্ক এডুকেশন, ফিজিক্যাল এডুকেশন,  ম্যানেজমেন্ট এইসব বিষয়ে তুলনায় প্রতিযোগিতা অনেক কম। অফবিট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা, কারিগরি অথবা প্রফেশনাল স্টাডিজ করা উচিত। 
সম্প্রতি ব্যাংকিং সেক্টরে ট্রেনিং দিয়ে চাকরিতে নিয়োগের কোর্স শুরু হয়েছে। কলা বিভাগের পড়ুয়াদের গাইডেন্স নিয়েই পথ নির্বাচন করা উচিত। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি  মেডিকেল সেক্ট্ররে অনেক কোর্স এবং চাকরির বাজার রয়েছে। যেমন, এন্ট্রান্স অথবা ম্যানেজমেন্ট কোটায় ডাক্তার, দন্ত ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদি ডাক্তার, Pharmacy,  Nursing,  Various types Medical Technologist এছাড়া কারিগিরি বিভাগে  আই টি আই, ইঞ্জিনিয়ারিং আবার কৃষি বিভাগও রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে অনেক অনেক কোর্স রয়েছে। এই সব কোর্স সরকারি এবং বেসরকারি উভয় কলেজেই পড়ানো হয়। প্রতিটি বিভাগে আলাদা আলাদা বিস্তারিত জানানোর প্রয়োজন, সংক্ষিপ্তভাবে সম্ভব নয়। 
ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে নতুন সংযোজন Hospital Administration, Tourism,  Pharmaceutical etc. প্রায় অধিকাংশ কোর্স সারটিফিকেট,  ডিপ্লোমা রয়েছে। গাইডেন্স নিয়েই ভরতি হওয়া উচিত, নইলে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচই হবে কাজের কাজের কিছুই হবে না। পড়ুয়াদের ক্যাপাবিলিটি, বিভাগ ও বিষয়ের প্রাধান্যতা এই সব বিচার করেই কোর্স নির্বাচন করা উচিত। আবার অনেক সময় পড়ুয়ার জেদের উপর বশবর্তী হয়ে তাদের ইচ্ছাকে গুরত্ব দিয়ে অভিভাবকরা  ভূল করে।  তাই পড়ুয়াদের ইচ্ছা কেও আমাদের জাস্টিফাই করে তবেই ছাড়পত্র দেওয়া উচিত।  তবে, পরিশেষে বলব, সাধারণ লাইন অর্থাৎ পাস কোর্স অথবা অনার্স কোর্সে ভরতি না হয়ে " অফবিট" কোর্সে পড়া উচিত। কারিগরি বিদ্যা অথবা প্রফেশনাল স্টাডিজ রপ্ত করলে চাকরির অভিমুখ প্রসারিত হয়। কারিগরি বিদ্যার একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আবার নিজের ইচ্ছামত বিষয় বা কোর্সে ভরতি না হতে পারলে জীবন শেষ হয়ে যায় না। অনেকেই দূরশিক্ষা মাধ্যমে পড়া শুরু করে। সেই সাথে কেন্দ্র, রাজ্য সরকারি অথবা বেসরকারি নানা চাকরির প্রস্তুতিও নেয়। কেউ আবার পুরো পড়া শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি আবার কেউ দূর শিক্ষা মাধ্যমে পড়া শুরু করে ৯০% প্রস্তুতি নেয় তো কেউ আবার পড়ার মধ্যেই ৫০-৫০ প্রস্তুতি নেয়। যে যত বেশি পরিশ্রম করে সে তত বেশি সাফল্য লাভ করে। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করেই বাচতে হবে। 

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

Top 10 Best Energy Drink in India, Bangladesh and Asian countries: A Comprehensive Guide